ঝড়-বৃষ্টিময় ঘোর অন্ধকার রাতে হাতে প্রজ্বলিত একটি হারিকেন ও মাথায় একটি ভরা কলসি নিয়ে নিজের ঘের ফিরছিল এক অন্ধ ব্যক্তি। বৃষ্টির পানি ও কাদায় রাস্তা পিচ্ছিল। তার ওপর গাছগাছালি নিচু হয়ে রাস্তার মাঝখানে চলে আসায় মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল বেশ। এই অবস্থায় মুখে-মাথায় গাছের ডাল আর পাতার খোঁচা খেয়ে নাকাল এক চক্ষুষ্মান অন্ধকে বাতি হাতে আসতে দেখে বলল, ‘তুমি তো আস্ত বোকা হে! তুমি অন্ধ, তোমার কাছে রাত-দিন সমান অন্ধকার। এ পিচ্ছিল দুর্গম পথে ঝুঁকি নিয়ে ভরা কলস মাথায় করে চলেছ, সেটা তোমার জন্য এক মস্ত বড় কীর্তি। কিন্তু এই কীর্তি ম্লান হয়ে গেছে তোমার নির্বুদ্ধিতায়। ওই হারিকেনটা তোমার কোন কাজে লাগছে? বোকা-বুদ্ধ না হলে কেউ বিপদের পথে বাড়তি ঝামেলা কাঁধে নেয় নাকি?’
চক্ষুষ্মানের কথায় উচ্চ স্বরে হেসে উঠল অন্ধ। বলল, ‘আমি বোকা-নির্বোধ নই। অন্ধত্ব থাকলেও দিব্যদৃষ্টি আছে আমার। তাই ভালো করে বিচার করে দেখলে নিরেট অন্ধ আমি নই, অন্ধ হলে তুমি। তুমি দিনে দেখো, রাতে দেখো না। অর্থাৎ তুমিও অর্ধেক অন্ধ। আর আমি দিনে যেমন দেখি, রাতেও একই রকম দেখি। এই মেঘলা ঘোর অন্ধকার, দুর্যোগময় রাতে মাথায় বোঝা নিয়েও আমি কেমন নির্বিকার দেখো; আর তুমি যেকোনো মুহূর্তে পা হড়কে আমার ওপরে এসে পড়তে পারো! তাতে ভাঙতে পারে আমার পানিভর্তি কলস। অন্ধকারে বেমক্কা আমার ওপরে অন্ধের মতো যাতে না পড়ো, সে জন্যই এই হারিকেন। এটা আমার অন্ধত্বের জন্য নয়, তোমার অন্ধত্ব দূর করার জন্য।’